আজ রাতে যেভাবে ইবাদত ও আমল করবেন

  • সোনালী ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
আজ রাতে যেভাবে ইবাদত ও আমল করবেন

ফাইল ছবি

আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র শাবান মাসের ১৪ তারিখ। এই দিবাগত রাত মুসলমানদের কাছে পরিচিত শবে বরাত বা নিসফে শাবান হিসেবে। হাদিসে এ রাতকে বলা হয়েছে, “লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান”, অর্থাৎ মধ্য শাবানের রজনী।

ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের জন্য এটি ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত, যা আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার জন্য সুপরিচিত।

শবে বরাতের ফজিলত

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে বলেছেন: “যখন শাবানের মধ্য দিবস আসবে, তখন তোমরা রাতে নফল ইবাদত করবে এবং দিনে রোজা পালন করবে।” (ইবনে মাজাহ)

বিখ্যাত সাহাবি হজরত মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষপোষী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করেন।
(ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

আরেক হাদিসে হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের নামাজে এত দীর্ঘ সেজদা করতেন যে মনে হত হয়তো তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। নামাজ শেষে নবীজী তাকে নিশ্চিত করেন, এটি অর্ধ শাবানের রাত, এ রাতে আল্লাহ বান্দাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেন, ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন।
(শুআবুল ঈমান, বায়হাকি: ৩/৩৮২–৩৮৩; তাবারানি: ১৯৪)

শবে বরাতের রাতে নফল নামাজ ও দোয়া

শবে বরাতের রাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা বিশেষ নিয়ত নেই। রাসুল ও সাহাবারা কোনো নির্দিষ্ট নিয়মে নামাজ পড়েননি।

নফল নামাজ: সাধারণ নফল নামাজের মতোই দুই বা চার রাকাত করে পড়া যেতে পারে। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতেহা এবং যে কোনো সূরা পড়া সম্ভব।
কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির: রাত জাগার সময় কোরআন পাঠ, তাসবিহ ও জিকির করা উত্তম।
দোয়া: নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। হাদিসে উল্লেখিত দোয়া:

আরবি: اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ، وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَان
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান
অর্থ: হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।
(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৫৯)

শাবান মাসের রোজা ও নফল ইবাদত

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসে রমজান ছাড়া বেশি নফল ইবাদত ও রোজা করতেন। বিশেষত ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের ‘আইয়ামে বিদ’ নফল রোজা রাখা সুন্নত। হাদিসে বলা হয়েছে, নবীজী কখনো ১০টি, কখনো ২০টি নফল রোজা রাখতেন।

শাবান মাসের এই ইবাদত ও রোজার মাধ্যমে মুসলমানরা আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর নৈকট্য এবং ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ পান।

সংক্ষিপ্ত টিপস মুসলমানদের জন্য

রাতে নফল নামাজ ও কোরআন পাঠ
জিকির ও দোয়া
দিনের রোজা বা নফল রোজা (আইয়ামে বিদ)
নিজেদের অন্তরের পরিশোধ ও ক্ষমা প্রার্থনা

শবে বরাতের রাত মুসলমানদের জন্য আত্মসমালোচনা, তাওবা এবং আল্লাহর রহমতের জন্য বিশেষ রাত হিসেবে পালনীয়।

এসএইচ 


 

Link copied!